নতুন
টেকনোলোজি

সবসময় চার্জার প্লাগইন করে রাখলে ব্যাটারি বা চার্জারে কোন সমস্যা হয়?

চার্জার
Spread the love

উন্নত প্রযুক্তি এবং সোসিয়াল মিডিয়া এখন সম্পূর্ণ বিশ্বব্যাপী, আমরা এখন স্বাভাবিকের চেয়ে আরও বেশি আমাদের ফোন এবং ইলেকট্রনিক্স পন্য ব্যবহার করছি – যার অর্থ আমাদের চার্জারগুলি আরও বেশি মূল্যবান হয়ে উঠছে আমাদের মধ্যে অনেকেই চার্জ করা শেষে চার্জার সকেটে লাগিয়ে রাখি, কিন্তু এই কাজটা কি বিদ্যুৎ খরচ করে? আপনি যখন চার্জার ব্যবহার করছেন না তখন চার্জার কি আনপ্লাগ করা উচিত? চলুন জেনে নেই।

চার্জ না করা অবস্থায় একটি চার্জার কতটুকু বিদ্যূৎ ব্যাবহার করে?

একটি চার্জার ঠিক কতটুকু বিদ্যুৎ ব্যাবহার করে এটি পরিক্ষা করার জন্য একটি সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন ৬টি চার্জার ২৪ ঘন্টার জন্য লাগিয়ে রাখে। এবং ২৪ ঘন্টা পর দেখা যায় চার্জারগুলো মাত্র ০.৩ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যাবহার করেছে। তাহলে হিসাব করলে দেখা যায় এক বছরে এগুলো 2.628 কিলোওয়াট (kWh) ব্যবহার করবে। আপনার শক্তির হারের উপর নির্ভর করে, আপনার খরচ হবে বছরে ২৭টাকা থেকে ৬৩টাকা। আর হ্যাঁ এই হিসাব কিন্তু ৬টি চার্জারের জন্য, তাহলে একটি চার্জারের ক্ষেত্রে হিসাব করলে দেখা যায় বছরে ৪.৫টাকা থেকে ১০.৫টাকা মাত্র।

ওভারচার্জ কতটুকু ক্ষতিকর?

ওভারচার্জ বা প্রয়জনের চেয়ে বেশি চার্জ করলে সকল ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কিন্তু যেমনটা আগেও বলেছি বর্তমানে প্রযুক্তি অনেক উন্নত, প্রযুক্তিবীদরা সর্বদাই সকল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে থাকেন। তাদের কল্যানেই বর্তমানে আমরা আমাদের ডিভাইসগুলোতে যে সকল ব্যাটারি ব্যবহার করি তার সবগুলোতেই একটি সার্কিট লাগান থাকে যা ব্যাটারিকে ওভারচার্জ হওয়া থেকে বাচায়। যখন ব্যাটারিটি ফুল চার্জ হয়ে যায় তখন সার্টিটটি ব্যাটারিতে চার্জ নেয়া বন্ধ করে দেয়, যার ফলে ব্যাটারি ওভারচার্জ হয়না। কিছু কিছু ডিভাইসে প্রযুক্তি আরো উন্নত, সে সকল ডিভাইস গুলোতে ব্যাটারি ফুল চার্জ হয়ে গেলে ব্যাটারি কোন চার্জ নেয়না এবং ডিভাইসটি তখন চার্জার থেকে পাওয়ার নিয়ে চলে। ল্যাপ্টপ স্মার্টফোন সহ বর্তমানের সকল আধুনিক গ্যাজেটগুলোতে এই ফিচার যুক্ত আছে। নিচের ছবিটিতে লক্ষ করুন লাল চিন্নিত অংশটি হল সেই সার্কিট বোর্ড যা এই সকল কাজ করে থাকে। এই বোর্ডটি বর্তমানে মোবাইলফোন তো বটেই সামান্য ২০০ টাকার এমপি৩ প্লেয়ারের ব্যাটারিতেও লাগান থাকে।

ব্যাটারি সার্কিট

এখন আপনার মনে আরো একটি প্রশ্ন জাগতে পারে যে চার্জার যদি সকেটে লাগিয়ে রাখি তাহলে চার্জারে কোন ক্ষতি হবে কিনা, উত্তর হল ‘না’ চার্জারেরও কোন ক্ষতি হবেনা। চার্জারগুলো সেভাবেই তৈরি করা হয় যেন তারা ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ লাইনের সাথে কোন সমস্যা ছাড়াই যুক্ত থাকতে পারে অর্থাৎ চার্জারেও সেরকমই সার্কিট ব্যবহার করা আছে যা চার্জারকে সর্বদা বৈদ্যুতিক সংযোগে থাকতে দেয় কোন সমস্যা ছাড়াই।

তাহলে ব্যাটারি কেন নষ্ট হয়?

আপনি হয়ত ভাবছেন যদি ব্যাটারিতে এত সব সার্কিট লাগানোই থাকে তাহলে ব্যাটারি কেন নষ্ট হয়? প্রতিটি ব্যাটারির জন্যই একটী গড় জীবনকাল থাকে তারপর জীবনকাল শেষ হওয়ার পর আপনি যত যাই করেন না কেন আপনার ব্যাটারি নষ্ট হবেই। সাধারনত একটি ব্যাটারি ৫০০ বার ফুল চার্জ করে ব্যাবহার করা পর্যন্ত তার আয়ুকাল থাকে তারপর থেকে তার স্থায়িত্ব নষ্ট হতে থাকে, তবে কিছু কিছু ব্যাটারি টেকনিক্যাল ত্রুটির কারনে এর আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার জন্য ব্যাটারি গরম হওয়া সবচেয়ে বেশি দায়ি। আবার ব্যাটারিতে যদি সর্বদা ফুল চার্জ করে রাখেন তাহলেও ব্যাটারি অতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে, আবার একদম লো করে ফেলাও উচিৎ না। সর্বদা চেষ্টা করতে হবে ব্যাটারির চার্জ ৪০-৮০ সতাংশের মদ্ধে রাখা তাহলেই বেস্ট ফারফরমেন্স পেতে পারেন যেকোন ব্যাটারি থেকে।

তাহলে এখন কি করনীয়?

এভাবে সরাসরি বলা যায়না আপনি কি করবেন ওপরে চার্জার ব্যাটারির সকল কিছুই বিস্তারিত লিখেছি,  এটা এখন সম্পুর্ন আপনার উপর নির্ভর করে যে আপনি কি করবেন। এখন মূল কথা হল আপনি যদি বছরে ১০টাকা বাচাতে চান তাহলে চার্জারটি খুলে রাখুন এবং যদি ১০টাকা বেশি খরচ করতে চান তাহলে লাগিয়ে রাখুন এটা সম্পুর্ন আপনার ব্যাপার। তবে হিসাবটা এখানে ১০ টাকার না হিসাবটা বিদ্যুৎ এর। কারন বিন্দু বিন্দু জল কনা দিয়েই নাকি সমুদ্র হয়, সেই হিসেবে এই পৃথিবীতে আপনি বা আমি একাই থাকিনা আরো অনেকেই থাকে সবাই যদি ২কিলোওয়াট করে নষ্ট করি তাহলে হিসাব করুন কত কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে। সুতরাং যদি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু বিদ্যুৎ বাচাতে চান তাহলে চার্জারগুলো আনপ্লাগ করে রাখুন। ধন্যবাদ

 

4 comments

আপনার মন্তব্য লিখুন

Close
%d bloggers like this: