ফার্মওয়্যার কি? সফটওয়্যার বনাম ফার্মওয়্যার | এদের মধ্যে পার্থক্য কি?

ফার্মওয়্যার কি
Spread the love

আমাদের কম্পিউটিং আর টেকের এই দুনিয়াই এমন অনেক শব্দ রয়েছে, যেগুলো আপনাকে সহজেই বিভ্রান্ত করে ফেলতে পারে।ফার্মওয়্যার ঠিক তেমনই একটি বিভ্রান্তিকর শব্দ, যদিও এর অর্থ বা এর কাজ কি, সেটা বোঝা অনেক সহজ ব্যাপার। এই আর্টিকেল থেকে ফার্মওয়্যার কি, এর গুরুত্ব সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য সম্পর্কে জানবো।

ফার্মওয়্যার কি?

আমরা জানি, কোন ইলেকট্রনিক ডিভাজের সে অংশকে দেখতে পাওয়া যায়, আপনি যেটাকে ছুঁতে পারবেন, ভাঙতে পারবেন, ফিজিক্যালি ঠিক করতে পারবেন—একে হার্ডওয়্যার বলা হয়। যদি আপনার কম্পিউটারের কথা বলি, সেখানে মাদারবোর্ড, র‍্যাম, হার্ড ডিস্ক ইত্যাদি হলো কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার। আপনার মোবাইলের ডিসপ্লে, মাদারবোর্ড, বিভিন্ন চিপ গুলো এখানে হার্ডওয়্যার।

হার্ডওয়ারের পাশাপাশি আরেকটি নাম অনেক বেশি শুনতে পাওয়া যায়, সেটি হচ্ছে সফটওয়্যার। সফটওয়্যার হলো ভার্চুয়াল জিনিষ, আপনি সেটাকে ফিজিক্যালি দেখতে বা ছুঁতে পারবেন না, কিন্তু একে কপি করতে পারবেন, পরিবর্তন করতে পারবেন, তৈরি করতে পারবেন, আবার ধ্বংসও করে ফেলতে পারবেন। সফটওয়্যারের আর কঠিন কোন ব্যাখ্যা না দিয়ে সহজ ভাষায় এটাই বলবো, হার্ডওয়্যার ব্যাতিত আপনার কম্পিউটারে যা কিছু রয়েছে, সবই সফটওয়্যার। আপনি হয়তো উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেন, আপনার সেই অপারেটিং সিস্টেম, আপনার ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার, ফটোশপ, ইন্টারনেট ব্রাউজার, অথবা আপনার স্মার্টফোনের অ্যাপ ইত্যাদি সহ সবকিছুই সফটওয়্যার। হার্ডওয়্যারকে কাজ করানোর জন্য সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়।

এখন এই ফার্মওয়্যার টা কি জিনিষ?—এটা আর কিছুই নয়, এটাও  এক প্রকারের সফটওয়্যার, যেটা নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারের জন্য তৈরি করা হয়। সংজ্ঞা আকারে বলতে চাইলে, হার্ডওয়্যারের জন্য ডিজাইন করা সফটওয়্যারকেই ফার্মওয়্যার বলে। আপনার কম্পিউটার মাদারবোর্ড থেকে আরম্ভ করে মোবাইল ফোন এমনকি আপনার টিভির রিমোট কন্ট্রোল এ পর্যন্ত ফার্মওয়্যার ইন্সটল থাকে। ডিভাইজ বা হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারী কোম্পানি এই বিশেষ সফটওয়্যারকে হার্ডওয়্যারটি তৈরির সময়ই এতে ইন্সটল করিয়ে দেয়। সফটওয়্যারটি হার্ডওয়্যারের সাথে ফ্যাক্টরি বা ফার্ম থেকে আসে বলে হয়তো এর এরকম নাম করন করা হয়েছে (এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত হয়, জাস্ট আইডিয়া থেকে বললাম)।

ফার্মওয়্যার আপডেট

হার্ডওয়্যার গুলো যাতে নতুন নতুন সফটওয়্যারের সাথে কাজ করতে পারে এবং নতুন নতুন মিডিয়াতে চলতে পারে এর জন্য হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারী কোম্পানিরা ফার্মওয়্যার আপডেট প্রদান করে থাকে। তারা সাধারণত সিডি, ডিভিডি, বা অনলাইন থেকে ফার্মওয়্যার আপডেট করার সুবিধা প্রদান করে থাকে।

ধরুন, আপনি নতুন ব্লু-রে ডিস্ক কিনেছেন, কিন্তু আপনার কম্পিউটার ব্লু-রে ড্রাইভ সেই ডিস্ককে বার্ন করতে পাড়ছে না। তাহলে আপনার কম্পিউটার ব্লু-রে ড্রাইভ কোম্পানি আমাকে ড্রাইভটির ফার্মওয়্যার আপডেট করে নিতে বলবে। আপডেট হওয়া ফার্মওয়্যারে লেটেস্ট কম্পিউটার কোড থাকবে এবং লেটেস্ট নির্দেশনা থাকবে এটি কিভাবে নতুন ডিস্ক গুলোকে বার্ন করবে। আবার প্রস্তুতকারী কোম্পানিরা তাদের পুরাতন ডিভাইজটিতে নতুন ফিচার যুক্ত করে দেওয়ার জন্যও ফার্মওয়্যার আপডেট প্রদান করে থাকে, সাথে ডিভাইজটির সিকিউরিটি প্যাচও করে দেওয়া হয়। যেমন- রাউটার ফার্মওয়্যার আপডেট করার মাধ্যমে নতুন ফিচার এবং সিকিউরিটি প্যাচ করা যায়

সাধারণ কাজের সফটওয়্যারের আপনি অনেক প্রকারভেদ এবং অনেক অপশন পেয়ে যাবেন। ধরুন, আপনার ভিডিও এডিট করার প্রয়োজন পড়লো, অনেক ভিডিও এডিটর সফটওয়্যার রয়েছে, আপনার চাহিদা অনুসারে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু ফার্মওয়্যারের ক্ষেত্রে তেমন বহু অপশন নির্বাচন করার সুবিধা থাকে না। প্রস্তুতকারী কোম্পানিরা আপডেট প্রদান না করলে আপডেট পাওয়াও সম্ভব হবে না। আবার এক মডেলের ডিভাজের ফার্মওয়্যার আরেক মডেলের ডিভাইজ সমর্থন করবে না।

ফার্মওয়ারের গুরুত্ব

কোন হার্ডওয়্যার ঠিকঠাক চলার জন্য, ফার্মওয়্যারের গুরুত্ব অপরিসীম। কোন হার্ডওয়্যার কি, কি বা তাদের কাজ এটা সম্পূর্ণ সিস্টেমকে ফার্মওয়্যারই বুঝিয়ে দেয়। তাই এটিকে আপডেট করার সময় অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। শুধু অফিশিয়ালভাবে আপডেট পাওয়া গেলেই, একে আপডেট করা উচিৎ, নিজে থেকে এক ডিভাইজের আপডেট আরেক ডিভাইজে ইন্সটল করতে গেলে ফার্মওয়্যার করাপ্টেড হয়ে যেতে পারে, এতে ডিভাইজটি আর কাজ করবে না। অনেক ডিভাইজ যেমন, স্মার্টফোনে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চলে আসে, সেটা অনেক সহজ ব্যাপার। কিন্তু যে ডিভাইজ গুলো ম্যানুয়ালি আপডেট করে নিতে হয়, সেখানে ডিভাইজ বা হার্ডওয়্যার মডেল বারবার চেক করে নেওয়া উচিৎ। সঠিক মডেলের সফটওয়্যার না হলে হার্ডওয়্যারটি কাজ করা বন্ধ করে দেবে।

অনেক ডিভাইজ রয়েছে, এদের আপডেট পাওয়ার ব্যাপারে কোন নোটিফিকেশনই পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে আপনাকে ঐ হার্ডওয়্যার বা ঐ ডিভাইজটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট চেক করে দেখতে হবে, সেখানে তারা আপডেট আপলোড করেছে কিনা। কোন ডিভাইজ লেটেস্ট হার্ডওয়্যারের সাথে কাজ না করলে, অবশ্যই সেটার ফার্মওয়্যার আপডেট এসেছে কিনা তা চেক করে নেওয়া দরকার। যদি আপডেট এসে থাকে তো হতে পারে সেটি লেটেস্ট মিডিয়ার সাথে কাজ করবে, এতে আপনার নতুন হার্ডওয়্যার বা ডিভাইজ কেনা থেকে টাকা বেঁচে যাবে।

ক্রেডিটঃটেকহাব

আপনার মন্তব্য লিখুন