একজন হ্যাকার আসলে কি করার ক্ষমতা রাখে, এবং কতটা বিপদজনক হতে পারে।

হ্যাকারের ক্ষমতা
Spread the love
হ্যাকারের ক্ষমতা

আজকে আলোচনা করব একজন হ্যাকারের ক্ষমতা এবং একজন হ্যাকার কতটা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে আপনার বাস্তবিক জীবনে। হ্যাকারদের “হকার হকার” বলে অপমান করার আগে সাবধান! কেন বলছি? জানতে পারবেন নিচেই। আসুন দেখা যাক ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং কি।

মানুষের অন্যতম ভয় হল অন্ধকার। রাতের অন্ধকার সবারই ভয় লাগার কথা যদি আলোর কোন উৎস না থাকে। হয়তো এর সাথেই সম্পর্কিত হতে পারে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এর নামকরণ। তো, যাই হোক। হ্যাকিং কে ব্ল্যাক হ্যাট কখন বলা হবে? তখনি যখন সেটা জনজীবনের ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়। কি ধরনের ক্ষতি? ক্ষতির ধরন অনেক রকমের হতে পারে। যেমন কোন হ্যাকার বাংলাদেশ সরকারের কোন সাইট হ্যাক করে সেখানে আপনার তথ্য দিয়ে কিছু একটা খারাপ লিখে দিয়ে চলে আসলো। সবার আগে বিপদে কে পড়বে? আপনি! চিন্তা করে দেখুন! কথাটা সত্য কিনা! আপনার তখন কোন কিছু করার পথ থাকবে না!
আবার হ্যাকার মনে করুন কোনভাবে আপনার ব্যাংক একাউন্টের কিছু পেয়ে গেল। সে সেটা দিয়ে আপনাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে।
আবার এমন হতে পারে, আপনার প্রিয় ফেসবুক একাউন্ট। হ্যাকার সেটা হ্যাক করে আপনাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিতে পারে! এ সময়ে এসে আপনি ভাবতে পারেন যে আইডি রিপোর্ট করে খাই দিলে কি হয়? কিছু না! এতে সে বিব্রতকর অবস্থায় পড়লো কি? বা তার আহামরি লস হল কি? হয়তো কিছু ছবি মিস করতে পারে সে, অনেকে আবার ছবির ব্যাক আপ রেখে দেয়, তাই লসে পড়ে না। আর এটা হ্যাকিং ও তো না! তাই, ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং কি সেটা নিশ্চয়ই আচ করতে পারছেন কিছুটা। হ্যা, ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং হল সেই ধরনের হ্যাকিং যা যে কোন কিছুর ক্ষতি করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সেটা হতে পারে যে কোন কিছু! ব্যাংক ব্যালেন্স , হ্যারাজমেন্ট ইত্যাদি।
তো, ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এ কি কি আছে? ২ – ১ টা উদাহরণ তো দিয়েই দিয়েছি, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হল ব্যাংক ব্যালেন্স হাইজ্যাকিং! অনেকে হয়তো কার্ডিং এর নাম শুনে থাকবেন। যারা শুনেন নি, তাদের জানার জন্য, এটি হল কারো অনলাইন ব্যাংক ব্যালেন্স হতিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি। কিভাবে করা হয়, সেটা তো জানি না তবে আপনার ইমেইল পাবার জন্য হ্যাকার আপনাকে নানাভাবে ট্র্যাপ করে থাকে। আপনি ফাদে পা দিলে সে আপনার ইমেইল জেনে যায় এবং সেখানে আপনাকে হাজারো ফেইক মেইল পাঠাতে থাকে যাকে বলা হয় ইমেইল স্পুফিং।
এখন, ধরুন আপনার পেপ্যাল একাউন্ট আছে। আপনাকে পেপ্যাল থেকে ইমেইল করা হল যে আপনাকে একাউন্ট সিকুরিটি বাড়াতে একটা লিঙ্কে লগিন করতে হবে, আপনি সেটায় গেলেন। লগিন করলে আপনার তথ্য হ্যাকারের কাছে চলে যাবে। এছাড়া অনেক সময় ওয়েবসাইটের ডাটাবেজ থেকে এরকম তথ্য বের করে নিয়ে আসে হ্যাকারেরা। তো, হাজারো এরকম মেসেজ একসাথে পাঠানোকে স্পামিং বলা হয়। প্রায় অনেকগুলো মেইল প্রোভাইডাররাই এই স্পাম ইমেইল ধরতে পারে, তাই অনেক সময় বিপদ হতে অনেকে বেঁচে যায়।
আবার আপনাকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হল যে কোন একটি ওয়েবসাইট হতে আপনাকে ভিসা দেওয়া হবে। আপনি ভরসা রেখে তাদের টাকা দিলেন কিন্তু ফল আসলো না। আপনি টাকা লস খেলেন। এটাকে বলা হয় স্ক্যামিং। অর্থাৎ, ধোকা দেওয়ার আরেক নাম স্ক্যামিং। এসবই ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এর সাথে জড়িত।
তো, এসব থেকে বাচার উপায় কি? একটাই উপায়, সেটা হল সচেতন থাকা এবং নিরাপদ থাকা। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এর মধ্যে ওয়েবসাইট হ্যাকিং এবং ডিফেস করাও পড়ে। কেননা আপনি একটি সাইটের তথ্য বদলে দিয়েছেন মানেই সাইটের মালিকের লসের পরিমান বাড়িয়ে দিয়েছেন। আপনি মনে করতে পারেন যে আমি তো আলাদা পেজ লাগিয়েছি, কিন্তু যে সাইট হ্যাক করলেন, তা যদি SEO করা থাকে, তবে সেটাকে এই কাজ অনেকটা ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়াবে। আবার AdSense এর ব্যাপারস্যাপারও জড়িত আছে। তাই, ডিফেস করা এবং হ্যাকিং সম্পূর্ণই ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং। কেউ ডিফেস করে যদি নিজেকে হুয়াইট হ্যাট (ব্ল্যাক হ্যাট এর বিপরীত এবং একে বাগ হান্টিংও বলতে পারেন) হিসেবে দাবী করে, তবে তা যুক্তিসঙ্গত হবে না। আর কেউ বাগ হান্টার হয়ে থাকে যদি, সে কখনো সাইটে ডিফেস পেজ আপলোড করতে চাইবে না। সে শুধু সাইটের বাগ বের করতে চেষ্টা করবে এবং পেলে তা কর্তৃপক্ষকে জানাবে। এর বেশি কিছু করতে চাইবে না।
আবার, আরেকটা ঘটনা চিন্তা করুন, মিডিয়ার দৌড় সারা দেশ থেকে ধরে বিশ্ব পর্যন্ত বিস্তৃত এখন, পপুলার কোন নিউজ ওয়েবসাইট হ্যাক করে কোন হ্যাকার যদি আপনার ব্যাপারে কিছু লিখে দিয়ে চলে আসে এবং সেটা সবাই পড়ে দেখে এবং ধরুন সেটা যদি প্রশাসনের সাথে জড়িত হয়ে যায়, আপনার লাইফ তো এখানেই নষ্ট হয়ে যাবে! হ্যাকারেরা এটা সহজেই করতে পারে, তাদের জন্য অসম্ভব কিছু নেই। আপনি জেনে থাকবেন যে গুগল, মাইক্রোসফটও হ্যাক হয়েছিল। সেখানে যদি আপনার ঠিকানা দিয়ে দিতো কোন হ্যাকার, তবে পরের দিনই আপনাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হতো। কাজেই সাবধান  🙂  সবাই অরডিনারি হলেও হ্যাকারেরা এক্সট্রা অরডিনারি জ্ঞানের অধিকারী। আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না যে আপনি বিপদে পড়ে গেছেন এমনকি সেটা আপনার অবগত নাও হতে পারে!
 হ্যাকারের ক্ষমতা হ্যাকারের ক্ষমতা হ্যাকারের ক্ষমতা
এককথায়, আইনের বিরুদ্ধে যে কোন কাজই খারাপ এবং এর সাথে হ্যাকিং যদি জড়িত হয়ে যায়, সেটাই ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং এর মধ্যে পড়বে। 

Related image

 

একজন হ্যাকার চাইলে আপনাকে কিভাবে ফাসাতে পারে?অনেক সিস্টেম আছে আপনি বুঝতেও পারেবন না আপনি শেষ হয়ে গিয়েছেন। যদি আপনার ফেমেলি একজন হ্যাকার এর চোখের বিষ হয়ে থাকে তাহলে ধরে নেন আপনি শেষ কিভাবে আপনাকে ফাসাবে

 

১।আপনি যদি সরকার বিরোধী স্টাটাস বা লিখা লিখি করেন তাহলে আপনার বায়ো সরকার এর কাছে দিয়ে দিতে পারে। ব্যপারটা হচ্ছে এমন আপনাকে সরকার চিনেও না বা ওদের ব্লাকলিষ্টে আপনি নেই তারপর ও একজন হ্যাকার আপনার তথ্য নিমিষেই দিয়ে আপনাকে ব্লাকলিষ্টে ফেলে দিতে পারে।

২. আপনি যদি দেশের বাইরে থাকেন একজন হ্যাকার আপনার ভিসার ১২ টা বাজিয়ে দিতে পারে আপনি যত টাকার মালিক হোন বা যত ক্ষমতাই থাকুক আপনার ভিসা ইমিগ্রেশন সার্ভার থেকে ১২ টা বাজিয়ে দিতে পারবে। এখন পুরো ইমিগ্রেশন সিস্টেম অনলাইন সো আপনার ভিসা কেন্সেল বা ভিসাকে শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগের ব্লাকলিষ্ট এ ফেলে দিতে পারে যতই টালবাহানা করেন না কেন লাভ হবে না।আপনার পাসপোর্ট ডাউট কাউন্টার এ ফেলে দিতে পারে।ডাউট কাউন্টার হচ্ছে আপনার পাসপোর্ট জাল এমন সন্দেহ এর একটা সেকশন আছে ইমিগ্রেশন সার্ভার এ যা আমি ২-৩ দিন আগে হটাত দেখেছি। এতে আপনার পাসপোর্ট এর তালিকায় দিয়ে দিতে পারে।এতে করে আপনার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত এবং ২ বছরের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। কিন্তু আপনার কোনো দোষ ই নেই। কিন্তু কে করেছে তা বুঝার ও ক্ষমতা দুনিয়ার নেই।

৩.আপনার পার্সনাল ইমেইল বা ফেসবুক আইডি বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগের কাছে দিতে পারে।কেউ বুঝবেও না কিন্তু আপনাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নিয়ে যাবে যদিও আপনার কোনো দোষ নেই।

৪.আপনাকে বেচে দিতে পারবে। সবচেয়ে বেস্ট ওয়ে ডার্ক ওয়েব। দেখবেন হটাত আপনি নেই। আপনাকে নিয়ে পার্ট পার্ট করে ফেলবে।এইবার আপনি ১০ ফিট হোন আর ২০ ফিট বা দানব নো প্রব্লেম। হয়ত এই বিষয় সাধারন মানুষ জানে না কিন্তু একজন হ্যাকার এর কাছে ওয়ান টু ব্যাপার।আপনার নাম হিট লিস্ট এ ফেলে দিতে পারবে এতে খরচ হবে ২০০০-২৫০০ ইউরো যা একজন হ্যাকার না দিয়ে বাইপাস
করতে পারব তাও ওয়ান টু ব্যাপার। এমন হাজার ও সাইট আছে ডার্ক ওয়েব এ। যা সাধারন মানুষ ঢুকতে পারে না।এর মধ্যে সিল্করোড,হিটম্যান নেটওয়ার্ক অন্যতম। http://ybp4oezfhk24hxmb.onion/ – Hitman Network দিয়ে দিলাম হিটম্যান নেটও্য়ার্ক এর সাইট url নিজেই ঢুকে দেখতে পারেন আপনাকে কিভাবে বিক্রি করা যাবে কারা আপনাকে তুলে নিয়ে যাবে ।

৫.আপনাকে ড্রাগ স্মাগ্লার হিসেবে ফাসিয়ে দিতে পারে। আর যদি কয়েকটা দেশ ঘুরেছেন এমন ভিসা থাকে লাইক ইন্ডিয়া,মালয়শিয়া,কাতার,দুবাই,লন্ডন তাহলে তো আপনি একদম শেষ।আপনার ভিসার তালিকা বের করাও ওয়ান টু ব্যাপার তা হচ্ছে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন এর পার্সনাল সার্ভার থেকে।কারন এমন কোনো সিকিউরিটি দিতে পারে না যাতে ঢূকা যাবে না তাই নিশ্চিত হয়ে ঘুমাইএন না।

৬.আপনি যদি দেশের বাইরে থাকেন এবং ঘন ঘন দেশে আসেন থাহলে গবমেন্ট টেররিজম সেকশন ৩ তে আপনার নাম ইনক্লুড করে দিতে পারে সরকারের পার্সনাল সার্ভার এ যা একজন হ্যাকার এর হাতের তুরির ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে আপনি অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে তো আরও সহজ কাজ টা।

৭.আপনি যদি অন্য দেশে থাকেন তাহলে আপনাকে একজন হ্যাকার রেমিটেন্স ইস্যু তে অর্থ পাচারকারী হিসেবে দুদক এর আওতায় নিয়ে আনবে। অর্থাৎ আপনার ব্যাংক ইনফরমেশন দুদক এর সার্ভার এ ইনক্লুড করবে। সার্ভার এর কোন সেকশন তাও উল্লেখ করে দেই তা হচ্ছে মানি লন্ডারিং। দুদক ও বুঝবে না দেখবে আপনার নাম তাদের কম্পিউটার এ আপনার নামে সাথে সাথে মামলা হয়ে যাবে।
আর যেকোনো ব্যাংক এর সার্ভার এ ঢুকে আপনার নাম দিলেই আপনার সব ইনফরমেশন এসে পরবে আবার হ্যাকার যদি জানে আপনি কোন ব্যাংক এ লেনদেন করেন হাহাহা তাহলে তো কথাই নেই।আর আপনার ইনফরমেশন পেলে তা চেঞ্জ করাও বেশি হলে ঘন্টার কাজ।

৮.আপনার ফেমিলির এমন কোনো ইনফরমেশন যদি থাকে যা আপত্তিকর তাহলে হ্যাকার আপনার ইনফরমেশন গুলো দেশের নামি দামি সাইটে এ ইনক্লুড করে দিতে পারবে এইবার আপনি যতই মামলা করেন টাকা খরচ করেন কোনো বাপের সাধ্য নেই তাকে ধরার। কারন একজন হ্যাকার তার সকল ইনফরমেশন এমন ভাবে হাইড করতে জানে যে কেউ তাকে খুজে পাবে না। কোনো কালেও না। এইবার ইন্টারনেশনাল কেইস করলেও। পারলে একজন ভালো এডভোকেট থেকে তা জেনে নিতে পারেন।

আরও অনেক প্রক্রিয়া আছে। বেশি ডিটেইলস এ যাব না।

 

এইটা সিওর থাকেন একজন সত্যিকারের হ্যাকার দের জন্য একদম পানিভাত?

এইবার বলি সবগুলি কাজ একদম সহজ। যে কোনো হ্যাকার করতে পারবে যদি সার্ভার এ ঢুকার সিস্টেম জানা থাকে। আর যদি এমন মানুষ কে কষ্ট দিয়ে থাকেন যে কিনা হ্যাকার তাহলে ধরে নেন আপনার কাউন ডাউন শুরু।মামলা দিলে বা কোনো কিছু করেও কে করেছে তা ধরার সুযোগ ই থাকবে না আর মামলা দিবেন কি নিজেই তো বাচার টাইম পাবেন না।

 

বেশি হলে ১৫ দিন লাগবে প্লেন করে আপনাকে কোনো হ্যাকার ফাসাতে। ভেবে দেখেন কার সাথে গলা উঠিয়ে কথা বলেছেন।আরেকটা কথা মাথায় রাখা ভালো হ্যাকারদের ভিতর কিন্তু ফিলিংস জিনিসটা কাজ করে না। আপনি যেই হোন চাইলেই জেলে রাখতে পারে। আপনার বাপের ও সক্ষমতা নেই হ্যাকার কে ধরার।

Image result for hackers horror pic

এটা অনেকেরই প্রিয় একটা জিনিস এবং অনেকেই এই কাজের দিকে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে।
ধন্যবাদ, সাথেই থাকবেন। হ্যাকারের ক্ষমতা

আপনার মন্তব্য লিখুন